কালের কণ্ঠ পরিবারের সাথে সায়েম সোবহান আনভীর

শিশুদের কিচিরমিচির, উচ্ছল ছুটে চলা আর প্রাণবন্ত বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গন সারা দিন ধরে রেখেছে উৎসবের আমেজ। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক পর্ব আর পারস্পরিক পরিচিতি প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কের বাইরে নিয়ে গেছে বড়দেরও। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রোদ উপেক্ষা করে বসন্তের এই দিনটি একান্তই নিজের করে নিতে আগ্রহের কমতি ছিল না কারো। মানবকুণ্ডলী পাকিয়ে খোলা আকাশের নিচে সহকর্মীদের নিয়ে হাসিঠাট্টা আর গল্পগুজবে সংবাদ কক্ষের চিরচেনা সেই ব্যস্ততাও যেন ভুলে গিয়েছিলেন খবরের কারিগররা। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর সাতারকুল এলাকায় ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) স্থায়ী ক্যাম্পাসে এভাবেই দিনটি কাটিয়েছেন প্রতিশ্রুতিশীল সংবাদপত্র কালের কণ্ঠ’র সহকর্মীরা। এই অনুষ্ঠানটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ফ্যামিলি ডে’।

উৎস থেকে তথ্য নিয়ে তা পাঠ উপযোগী করার পেছনে বেশির ভাগ সময় ব্যয় হয় সংবাদকর্মীদের। ধ্যান-জ্ঞানে খবরের পেছনে ছোটায় পরিবার ও স্বজনদের জন্য একটু সময় বের করতেও হিমশিম খেতে হয় তাঁদের। সহকর্মীদের কাছাকাছি থাকলেও একটু সময় মনখোলা আড্ডা আর গল্পগুজবও যেন সোনার হরিণ। তবে কর্মীদের সেই আক্ষেপ ঘোচাতে উদ্যোগী হয় কালের কণ্ঠ পরিবার। আনন্দ যেন পেশাদারিত্বে বিরূপ প্রভাব না ফেলে সে বিষয়ে খেয়াল রেখে অফিসের অদূরে অবস্থিত মাদানী সড়কের দক্ষিণে ইউআইইউ ক্যাম্পাসে আয়োজন করা হয় ‘ফ্যামিলি ডে’। ফ্যামিলি ডের শুরুর দিকে দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর এবং তাঁর সহধর্মিণী বসুন্ধরা গ্রুপের পরিচালক সাবরিনা সোবহানের উপস্থিতি বাড়তি আনন্দ যোগ করেছে অনুষ্ঠানস্থলে। এ ছাড়া কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোস্তফা কামাল এবং ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী মফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সায়েম সোবহান আনভীর বলেন, ‘১০ বছর ধরে কালের কণ্ঠ এবং প্রতিষ্ঠানটির সহকর্মীদের চিনি আমি। কিন্তু পরিবারকে চিনি না। আজ পরিবারসহ সবাইকে দেখে মনটা জুড়িয়ে গেল। এই যাত্রা শুরু হলো, এটি যেন শেষ না হয়। এবার ঢাকার মধ্যে ফ্যামিলি ডে করেছি, এরপর ঢাকার বাইরে আমরা পিকনিক করতে পারি। যে প্রতিষ্ঠানে ফ্যামিলি বন্ডিং থাকে না সে প্রতিষ্ঠান ভালোভাবে চলে না। আগামীতে এভাবেই এগিয়ে যাবে কালের কণ্ঠ।’

কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পরিচালক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘এ ধরনের একটি মিলনমেলার আয়োজন করতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত। আমি বিশ্বাস করি, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এ ধরনের আয়োজন আমাদের কর্মস্পৃহা আরো বাড়িয়ে তুলবে।’

কালের কণ্ঠ ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমাদের এমডি এবং তাঁর সহধর্মিণীকে এই অনুষ্ঠানে পেয়ে আমরা আনন্দিত। ১০ বছরে আমরা একটি ফ্যামিলি ডে করতে পেরেছি, বসুন্ধরা গ্রুপ যে একটা পরিবার, এটা তারই বহিঃপ্রকাশ। আমরা যে একটি পরিবার তা বোঝানোর জন্যই এই মিলনমেলার আয়োজন করেছি।’

গতকাল শুক্রবার কাকডাকা ভোর থেকে সপরিবারে গন্তব্যে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করেন কালের কণ্ঠ’র কর্মীরা। সাড়ে ৯টার আগেই গন্তব্যে জড়ো হন সবাই। প্রাতাহার শেষে মাঠে শুরু হয় শিশু, নারী ও পুরুষদের খেলাধুলা পর্ব। শিশুদের জন্য দৌড়, বিস্কুট দৌড় এবং হাঁটা প্রতিযোগিতা ছিল বড়দেরও আকর্ষণ। দুই পর্বে ভাগ হয়ে বালিশ খেলায় মেতেছেন নারী সহকর্মী ও অতিথিরা। এ ছাড়া ফুটবলের ছোট বারে গোল এবং দৌড় প্রতিযোগিতা ছিল পুরুষদের জন্য। পুরস্কার জিততে না পারলেও প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েই হেসেছেন বিজয়ের হাসি। খেলাধুলা পর্ব শেষে শুরু হয় মধ্যাহ্নভোজ। এর মধ্যে বাঁশিতে ফুঁ দিয়ে সবার মন কাড়েন সাপুড়ে। সাপ খেলা ঘিরে শিশুদের আনন্দ গিয়ে ঠেকেছে অন্য উচ্চতায়। ভোজের পর ঘুম ঘুম ভাব কাটাতে অডিটরিয়ামে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। কালের কণ্ঠ পরিবারের সদস্য এবং অতিথি শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চাঙ্গা করেছে সবাইকে। সাংস্কৃতিক পর্ব শেষ হওয়ার আগেই সবার উপস্থিতি র‌্যাফল ড্র ঘিরে। একে একে ঘোষণা করা হয় ২১ সৌভাগ্যবান বিজয়ীর নাম। শেষের দিকে বিজয়ীদের নাম শুনতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছেন সবাই। র‌্যাফল ড্রর প্রথম পুরস্কার জিতেছেন কালের কণ্ঠ’র পিএবিএক্স বিভাগের সহকর্মী মো. আব্দুল কুদ্দুস। এ ছাড়া দ্বিতীয় পুরস্কার জিতেছেন কম্পিউটার বিভাগের একরামুল হক মজুমদার এবং তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন ফিচার বিভাগের মুনীর রানা।

পুরস্কার শেষে আবারও সেই সংবাদের আঁতুড়ঘরে ফেরার তৎপরতা ছিল সবার চোখে-মুখে। পরিবারের সদস্যদের বিকল্প ব্যবস্থায় গন্তব্যে পাঠিয়ে অনেকেই ফিরেছেন চিরচেনা সেই কর্মব্যস্ত অফিসে।

Tags: